চট্টগ্রাম স্বাস্থ্যসেবায় অনেক দূর এগিয়েছে: পুষ্টি মহাপরিচালক

0

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বাংলাদেশ পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

নগরীর টাইগার পাস সংলগ্ন নেভী কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্ল্যাহ। কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী ও লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. নাজিয়া বিনতে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংবর্ধিত বিদায়ী অতিথি বাংলাদেশ পুষ্টি পরিষদের মহাপরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সুমন বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাপরিচালকের সহধর্মিনী তানিয়া কবীর, ফৌজদারহাটস্থ বিআইটিআইডির সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাকিল আহমেদ, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. অং সুই প্রু মার্মা ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মমিনুর রহমান, চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. গোলাম কাওছার হিমেল, সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন (কুমিল্লা), ডা. রফিকুস সালেহীন (ফেনী), ডা. বিপাস খীসা (রাঙ্গামাটি), ডা. মোঃ শাহাদাত হোসেন (চাঁদপুর), স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মহসীন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ (লোহাগাড়া), ডা. নুসরাত জাহান মিথেন (মতলব), ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন (উখিয়া), ডা. অভিজিৎ রায় (নাসির নগর), ডা. রশ্মি চাকমা (বিলাইছড়ি), ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীরের কন্যা ডা. সুমাইতা হাসান কবীর ও হিবা হাসান কবীর।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী অতিথিকে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, বিভিন্ন জেলা সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তারা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর বলেন, সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে চট্টগ্রাম অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রামে প্রায় তিন বছর ৪ মাস কর্মকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশনা মতে বিভিন্ন সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সাব-সেন্টারগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন অব্যাহত রেখে জনগণের দৌরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

তিনি বলেন, কোভিড শুরুর সময়ে চট্টগ্রামে বিশেষ আইসিইউ বেড, হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানোলা, অক্সিজেন ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকট ছিল। এ সময়ে সমাজের ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি ও বেসরকারী কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কোভিড আক্রান্ত রোগীদের বাঁচাতে সময়োপযুগী চিকিৎসা-সরঞ্জাম নিয়ে সরকারের পাশে দাড়িঁয়েছে। বেসরকারী ফিল্ড হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালগুলো নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামে কোভিড চিকিৎসায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছে। প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, বিএমএ নেতৃবৃন্দ, স্বাচিপ নেতৃবৃন্দ, ধর্ণাঢ্য ব্যক্তি সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে চিকিৎসক-কর্মচারীরা রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন বলেই চট্টগ্রামে কোভিড নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। কোভিড চিকিৎসার নামে যে সকল প্রতিষ্ঠান গলাকাটা ব্যবসা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ট নেতৃত্বে আমরা সকলে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার কারণে বিশ্বে অতি দ্রুত সময়ে কোভিড নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ প্রথম। সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামে দ্বিতীয় কোভিড টিকার ডোজের পর বুস্টার ডোজ সম্পন্ন হতে চলেছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সংক্রান্ত যে কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি বলেই চট্টগ্রাম বিভাগ এ ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়েছে। চট্টগ্রাম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের মহাসড়কে সবাইকে সামিল হওয়ার আহবান জানান তিনি।

জেএন/কেকে

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...