মোসাদ্দেকের বোলিং নৈপূণ্যে সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ

0

হারারেতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতায় ফিরল বাংলাদেশ।

১৫ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের দল। দ্বিতীয় ম্যাচে এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৫ রান তোলে স্বাগতিকরা। টাইগার স্পিনার মোসাদ্দেক হোসেন তুলে নেন ৫ উইকেট। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লিটন দাসের ফিফটিতে সহজ জয় পায় টাইগাররা।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মোসাদ্দেকের অফ স্পিনে বিভ্রান্ত হয় স্বাগতিকরা। ইনিংসের প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ২০ রানে জিম্বাবুয়ের প্রথম সারির ৫ উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক। তার অসাধারণ বোলিংয়ে ৩১ রানে ৫ উইকেট হারানো জিম্বুবয়েকে সম্মানজনক স্কোর উপহার দিতে দারুণ ব্যাটিং করেন সাবেক অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।

ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে রায়ান বুলকে সঙ্গে নিয়ে ৬৫ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা। ৩১ বলে ৩২ রান করা বুলকে বোল্ড করে ফেরান হাসান মাহমুদ।

ইনিংসের ১৯তম ওভারে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দেন সিকান্দার রাজা। তার আগে ৫৩ বলে চার বাউন্ডারি আর দুটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে দলীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন সিকান্দার।

ইনিংসের শুরুতে উদ্বোধনী ওভারে বোলিংয়ে এসেই ৫ রানে জিম্বাবুয়ের ২ উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক। প্রথম বলে রাগিস চাকাভা আর শেষ বলে ওয়েসলি মাধেভেরেকে ফেরান তিনি।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলে অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন মোসাদ্দেক। ৪ বলে মাত্র ১ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফের উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক। ওভারের চতুর্থ বলে শন উইলিয়ামসকে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ লুফে নেন সৈকত।

নিজের শেষ আর ইনিংসের সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ফের উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক। ওভারের পঞ্চম বলে মিল্টন শুম্বাকে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করেন সৈকত। ৮ বলে ৩ রান করে পেসার হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন শুম্বা।

শুম্বার বিদায়ে ৬.৫ ওভারে ৩১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলকে ঝড়ো সূচনা এনে দেন লিটন। একপ্রান্তে মুনিম ৮ বলে ৭ রান করে ফিরলেও অপরপ্রান্তে লিটন নিজের মতো করে খেলে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৬ চার ও ২ ছয়ে ৫৬ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

তিনে নেমে আনামুল হক বিজয় এই ম্যাচেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। ১৫ বলে ১৬ রান করে প্রথম ম্যাচের মতো আবারও সিকান্দার রাজার বলে ফেরেন তিনি।

৮১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বাকি সময় নির্বিঘ্নে খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আফিফ হোসেন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুইজনের ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৫ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন দুই ব্যাটসম্যান।

আফিফ ৩০ ও শান্ত ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে রাজা, উইলিয়ামস ও রিচার্ড এনগার্ভা ১টি করে উইকেট শিকার করেন। আগামী ২ আগস্ট সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

একই ভেন্যুতে সিরিজের প্রথম খেলায় ২০৬ রানের টার্গেট তাড়ায় বাংলাদেশ হারে ১৭ রানে।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...