চার বন্ধু মিলে কোচিং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ট্রেনের ধাক্কায় একসঙ্গেই মৃত্যু

0

দেড় মাস আগে ৪ বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কোচিং সেন্টারটি। গত ১৫ জুন বন্ধুদের নামের প্রথম অক্ষর দিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আমানবাজার জোগিরহাট এলাকায় চালু করেন আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টার। চার শিক্ষক হলেন-রাকিব খান, তৌহিদুল আলম জিসান, জিয়াউল হক সজিব এবং রেদোয়ান চৌধুরী।

শুক্রবার সকাল ৯ টায় খৈয়াছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার আগে কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোচিংয়ের সামনে একটি ছবিও তুলেছিলেন তারা। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন রাকিব খান। কে জানত নিজেদের কোচিং সেন্টারের সামনেই এটিই তাদের শেষ ছবি।

চার বন্ধুই মারা গেছেন ট্রেনের ধাক্কায়। দুর্ঘটনাটি ঘটে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া এলাকায়। পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের ঝরনা থেকে কিছুটা দূরেই ছিল রেলের লেভেলক্রসিং। রেললাইনে ট্রেন আসছিল কিনা তা জানা ছিল না তাঁদের কারোই। রেলপথ পাড় হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা ১১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ছিলেন এই চার বন্ধু।

জানা গেছে, নিহত ও আহত সকলের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজার খন্দকিয়ায়। আজ শুক্রবার এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং সেন্টারের চার শিক্ষক জিসান, সজীব, রাকিব এবং রেদোয়ান মিরসরাইয়ে খৈয়াছড়া পানির ঝর্ণা দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে দুপুরে ট্রেনের ধাক্কায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল আলম বলেন, ‘আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও ছাত্ররা সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। গাড়িতে কোচিং সেন্টারের ৪ জন শিক্ষক ছিল। বাকিরা শিক্ষার্থী। ’

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাস দুয়েক আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আমানবাজার জোগিরহাট এলাকায় তারা আর অ্যান্ড জে কোচিং সেন্টার চালু করেন। কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে খৈয়াছড়ায় গিয়েছিলেন তারা। ঘুরতে যাওয়ার আগে সকালে কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোচিংয়ের সামনে একটি ছবিও তুলেছিলেন সবাই মিলে।

জিয়াউল হক সজিবের বাবা হামিদ হোসেন বলেন, আমি একটি মুদির দোকানে কাজ করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছি। ছেলে এমইএস কলেজে গণিতে অনার্সের তৃতীয় বর্ষে পড়ত। সে তার তিনজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে একটি কোচিং সেন্টার চালু করেছিল কিছুদিন আগে। ছেলে উপার্জন করতে চেয়েছিল, তার আগেই মারা গেল।

হাসপাতালে হোছাইন নামের একজন বলেন, শিক্ষকরা খুবই ভালো ছিলেন। এলাকায় সবাই তাদের ভালো ছেলে হিসেবে চিনে।

হাসপাতালে আসা ফারুক চৌধুরী নামের একজন বলেন, চারজনই আমার কোচিং সেন্টারের ছাত্র ছিল। গত জুনে নিজেরা কোচিং সেন্টার চালুর বিষয়ে তারা আমাকে জানায়। আমিও তাদের কোচিং সেন্টার চালুর ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, গতকাল জিসান ফোর-এইচ গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে রিপোর্টিং প্রোডাকশন অফিসার পদে যোগদান করেছিল।

নিহত রাকিবের চাচা মোজাম্মেল বলেন, রাকিব বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কোচিং সেন্টার চালু করে। সে ঢাকায় একটি কলেজে পড়াশুনা করত।

নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী হিশামের বন্ধু সাজিদ বলেন, আমারও ওদের সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজকে এলাকায় একটা ফুটবল টুর্ণামেন্ট থাকায় আমি আর যাই নাই। আমি আমার বন্ধুদের হারিয়ে ফেললাম। আর ওদের দেখতে পাব না বলেন কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

জেএন/কেকে

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...