ত্বক ভালো রাখবে আম!

0

শুধু খেতে সুস্বাদু তা নয়, ত্বকও ভালো রাখে আম!

আমকে ফলের রাজা কি সাধে বলা হয়? আমের অনেক গুণ আছে বলেই না এমন নামে সে পরিচিত। আম আমাদের সকলেরই প্রিয় একটি ফল। শুধু স্বাদের জন্য সিংহাসন পায়নি এই ফল।বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট ২০ ধরনের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সম্ভার রয়েছে এই ফলটিতে। নানা উপাদানে সম্পন্ন আম শরীরের দেখভাল করার পাশাপাশি রূপের খেয়ালও রাখে। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করে যা আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখে। কোলাজেন প্রোটিন আমাদের ত্বকের বলিরেখা ও ব্রনের সমস্যা দূর করে। এছাড়া আম চুলের সমস্যাও দূর করে। তাই আম শুধু খেয়েই নয়, ত্বকের যত্নেও ব্যবহার করা যায়।

দুধে-আমে মিলে যা রসনাতৃপ্তি ঘটানোর, তা তো হয়েই থাকে। তবে এ ছাড়া আরও কত গুণ আছে আমের, জেনে নিন। আম খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার ভয় দেখান অনেকে। তাঁদের জানিয়ে দেওয়া ভাল, এতে শরীরের যত্ন হয় নানা ভাবে। বিশেষ করে ত্বকের দেখভাল তো হয়ই। যেমন-

ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধিঃ আম ত্বকের আদ্রতা বাড়ায়। এই ফলে নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে। সঙ্গে থাকে পটাশিয়াম এবং ভিটামিন ই। সবে মিলে ত্বক নরম করে রাখে।

দাগ দূরীকরণঃ আম লোমের গোঁড়া থেকে পরিস্কার করে যার ফলে মুখের ও নাকের ব্লাকহেড দূর করে। এছাড়া প্রতিদিন ১০০ গ্রাম পাকা আম খেলে মুখের কালো দাগ দূর হবে।

ব্রণ প্রতিরোধঃ আম ব্রণের সমস্যা কমায়। এটি হয় আমে উপস্থিত ভিটামিন সি-র জোরে। যাদের ত্বক তেলতেলে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাদের ব্রণর সমস্যা বেশি হয়। কিন্তু আমের ভিটামিন সি ত্বকের প্রদাহ কমায়। আর এই ফলে উপস্থিত ম্যাগনেশিয়াম কমায় তেলতেলে ভাব। সবে মিলে হয় ঝকঝকে ত্বক।

ক্ষত শুকাতেঃ কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণ ভিতামিন সি থাকায় মুখের নানা রকমের ক্ষত শুকাতে ও মুখের নানা রকম সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এছারাও কাঁচা আম স্কার্ভি ও মাড়ি থেকে রক্তপাত কমাতে সাহায্য করে।

ত্বকের জেল্লা বাড়াতেঃ ত্বকের জেল্লা বাড়ায় আম। কী ভাবে? এই ফলের ভিটামিন এ ত্বকের দাগ, ছোপ সরায়। স্বাস্থ্য ফেরায়। আর তার প্রভাবে ত্বক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

ত্বকের যত্নে আমের প্যাক

রূপবিশেষজ্ঞদের মতে, পাকা আমে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, কে, বি৬ রয়েছে যা ত্বকের যত্নে অত্যন্ত উপকারী। আম তো গরমে সবার বাড়িতেই থাকে। কয়েকটা প্যাক বানিয়ে ত্বকের যত্ন শুরু করে দিতে পারেন সহজেই। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন পাকা এই প্যাক ব্যবহার করলে ত্বক হবে সতেজ ও উজ্জ্বল। বজায় থাকবে সঠিক আর্দ্রতা।

  • দুধ, আম ও মধুর প্যাকঃ ২ টেবিল চামচ আমের পেস্ট, ১ চা-চামচ দুধ ও আধা চা-চামচ মধু নিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এই প্যাক ত্বকের যত্নে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। ত্বকের আর্দ্রতাও বৃদ্ধি পায়।
  • আম ও মুলতানি মাটির প্যাকঃ চটজলদি ত্বকের বয়স কমাতে হলে আম ও মুলতানি মাটির প্যাক খুব উপকারী। একটা আমের সঙ্গে ২ চামচ দই এবং ৩ চামচ মুলতানি মাটি মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি সারা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্যাবহারের ফলে ত্বকের কোলাজেনের মাত্রা বেড়ে যাবে।
  • গোলাপজল ও আমের প্যাকঃ যাদের ত্বক খুব সেনসিটিভ, তাঁদের জন্য উপকারী এই ফেসপ্যাকটি। আম ভালো করে চটকে নিন। এতে ২ চামচ মুলতানি মাটি, ২ চামচ দই এবং ২ চামচ গোলাপ জল দিয়ে দিন। পেস্টটা মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে নিন।
  • আম ও ওটসের প্যাকঃ আমের ছোট-ছোট টুকরো নিয়ে তাতে ৩ চামচ ওটস গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। সবশেষে ২ চামচ দুধ মিশিয়ে ভালো করে মেখে নিয়ে পেস্ট মুখে লাগিয়ে ফেলুন। এর পর মিনিট ২ ধীরে-ধীরে মালিশ করে নিন। এর পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এই ভাবে ত্বকের যত্ন নিলে মরা কোষের স্তর সরে যাবে। বলিরেখা মিলিয়ে যেতেও সময় লাগবে না।

 

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...