বঙ্গবন্ধু টানেলের নিরাপত্তায় দুই প্রান্তে নতুন ২ থানা

0

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও আনোয়ারায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। দেশের ইতিহাসে প্রথম এ টানেলটির নির্মাণকাজ চলছে পুরোদমে।

এই টানেল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সংযোগ সৃষ্টি করবে। টানেলের মাধ্যমে ওয়ান সিটি টু টাউন হিসেবে গড়ে তুলতে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে।

টানেল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে যে বিশাল আকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হবে তা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সে লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে টানেলের দুই প্রান্তে দুটি থানা ও একটি পুলিশ লাইন নির্মাণের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিলো। অবশেষে পদ্মা সেতুর মতো টানেলের দুই প্রান্তে পূর্ব ও পশ্চিম দুটি থানার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

নগরীর পতেঙ্গা প্রান্তে থানার নাম হবে- ‘বঙ্গবন্ধু টানেল পশ্চিম থানা’ এবং আনোয়ারা প্রান্তের থানার নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু টানেল পূর্ব থানা’।

আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ, বারাশাত, রায়পুর ও বড় উঠান ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে বঙ্গবন্ধু টানেল পূর্ব থানা। আর নগরীর অংশে সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হবে বঙ্গবন্ধু টানেল পশ্চিম থানা।

একই সাথে টানেল এলাকার পাশে কর্ণফুলী উপজেলায় চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফ) কারখানা সংলগ্ন ২৫ একরের বেশি জায়গা নিয়ে নতুন পুলিশ লাইন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।

টানেল চালুর আগেই ওই এলাকার সার্বিক শৃঙ্খলা তথা নিরাপত্তায় থানার কার্যক্রম শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন সিএমপির কর্মকর্তারা।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রানেল নির্মাণ কাজ পুরোপুরি শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ইতোমধ্যে দৃশ্যমান কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেলের ভেতরের সড়ক। বর্তমানে টানেলের ভেতর তৈরি করা হচ্ছে পিচঢালা পথ। দুই টিউবের মধ্যে লেন স্ল্যাব লাগানোসহ অভ্যন্তরীণ স্ট্র্যাকচারের কাজ চলছে।

সেই সাথে টিউব দুটির মাধ্যমে আন্তঃসংযোগ ও সড়ক নির্মাণের কাজও অনেকটা শেষ পর্যায়ে। টানেলের আর ১৩ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। টানেলের কাজ শেষ হলে চীনের সাংহাইয়ের আদলে চট্টগ্রামে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বললেন এ প্রকল্প কর্মকর্তা।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই টানেলে প্রতিটি টিউব বা সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার। একটির সঙ্গে অপর টিউবের দূরত্ব ১২ মিটারের মতো।

প্রতিটি টিউবে দুটি করে মোট চারটি লেন তৈরি করা হয়েছে। টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে থাকছে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এছাড়া ৭২৭ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ছোট ফ্লাইওভার রয়েছে আনোয়ারা প্রান্তে।

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় নেভাল অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরতায় নেমে যাওয়া এই টানেল কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ-পূর্বে আনোয়ারায় সিইউএফএল ও কাফকোর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে স্থলপথে বের হবে।

৩৫ ফুট প্রশস্ত ও ১৬ ফুট উচ্চতার টানেলে দুটি টিউব দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। টানেলের উত্তরে নগরীর দিকে সিটি আউটার রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কাটগড় সড়ক, বিমানবন্দর সড়ক এবং পতেঙ্গা সৈকত সড়ক দিয়ে টানেলে প্রবেশ করা যাবে।

জেএন/পিআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...