ঈদের দ্বিতীয় দিনও চলছে পশু কোরবানি

0

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানি দিচ্ছেন অনেকে। তবে ঈদের দিনের তুলনায় তা অনেক কম।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও আ‌রো দু‌দিন তথা জিলহজ মাসের ১১ তারিখ (ঈদের দ্বিতীয় দিন) ও ১২ তারিখও (ঈদের তৃতীয় দিন) সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানের আলোকে দ্বিতীয় দিন অনেকে পশু কোরবানি করছেন।

ত্যাগের মহিমা এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কেউ একাধিক কোরবানি দিচ্ছেন। আবার কেউ পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষায়, কেউ আবার ব্যবসা ও কাজের চাপ এবং কসাইয়ের অভাবে ঈদের দিন পশু জবাই দিতে পারেননি, তারাই দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিচ্ছেন।

সোমবার (১১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাড়া-মহল্লা ও প্রধান সড়কে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর আজিমপুরের ব্যবসায়ী রবিউল হোসেন ঈদের দ্বিতীয় দিন পশু কোরবানি দিচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতি বছর আমরা তিনটি গরু কোরবানি দেই। একটি ঈদের দিন, আজ একটা এবং আগামীকালও আরেকটা কোরবানি করবো। আল্লাহ যেন আমাদের কোরবানি কবুল করেন।

ধানমন্ডির বাসিন্দা ফারহান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন বাজার খুঁজে মন মতো গরু পাইনি। অবশেষে আফতাব নগর হাট থেকে গরু কিনেছি ঈদের আগের দিন রাতে। ঈদের দিন কসাই পাইনি। আজকের জন্য কসাই পেয়েছি। যেহেতু ঈদের পরের দুই দিনও কোরবানি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, তাই আজ কোরবানি দিচ্ছি।

ফার্মগেট এলাকায় নিজের বাড়ির সামনের সড়কে কোরবানির কাজ করছেন শেখ ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা দুই ভাই দুটি গরু এনেছিলাম। কাল একটা কোরবানি দিয়েছি। লোকবলের সমস্যা। তাই গতকাল ঈদের দিন বড় ভাইয়ের গরু কোরবানি দিয়েছি। আজ আমারটা কোরবানি করছি।

ঈদের দ্বিতীয় দিন চট্টগ্রামের অনেক পাড়া-মহল্লায় পশু কোরবানি দিচ্ছেন। মূলত পেশাদার কসাই না পেয়ে ঈদের দিন যারা কোরবানি দিতে পারেনি তারাই আজকে কোরবানি দিচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরের হালিশহর, এনায়েত বাজার, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন ঈদের দ্বিতীয় দিন।

ঈদের দিন গরু প্রতি হাজারে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা নেন কসাইরা। তবে ঈদের পরদিন কসাইদের চাহিদাও কমেছে। এদিন নেওয়া হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এই টাকায় কসাইরা গরু জবাই থেকে শুরু করে চামড়া ছাড়ানো, হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে তা ছোট করে কাটা, হাড়গুলো ছোট ছোট করে কেটে দেওয়া, নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কারসহ সব কাজ করে দেন।

এদিকে সিটি করর্পোরেশন শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের টার্গেট নির্ধারণ করলেও তা সম্ভব হয়নি। খোদ চসিকের দাবি, ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করেছে কোরবানির দিন৷ তবে দ্বিতীয় দিনও কোরবানি দেওয়ায় নগরের বেশ কিছু জায়গায় বর্জ্য দেখা যাচ্ছে। এছাড়া প্রধান সড়কে বর্জ্য অপসারণ হলেও অলিতে গলিতে কিছু স্থানে বর্জ্য রয়ে গেছে।

মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আজহা। সারাবিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিমের (আ.) পুত্রকে কোরবানির প্রতীকী ত্যাগের ঐতিহ্য অনুসরণে ১০ জিলহজ পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।

জেএন/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...