পুরান-মেয়ার্স ঝড়ে বাংলাদেশের সিরিজ পরাজয়

0

গায়ানায় সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৫ উইকেটের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। ১৬৩ রানের পুঁজি নিয়ে বল হাতে ভালো শুরু পেলেও টাইগাররা একপর্যায়ে ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে, ফলে ক্যারিবীয়রা ১০ বল হাতে রেখে সিরিজ জেতে ২-০ ব্যবধানে।

প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ম্যাচ শুরু করলেও এই ম্যাচে টস ভাগ্য এসেছিল বাংলাদেশের পক্ষে। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও ইনিংসের শুরুতেই টাইগাররা হারিয়ে ফেলে এনামুল হক বিজয়কে, যিনি ১১ বলে করেছেন ১০ রান। আগের দিনের হাফ সেঞ্চুরিয়ান সাকিব আল হাসান আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করলেও ৩ বলে ৫ রান করে ধরেন সাজঘরের পথ। যার কারণে বাংলাদেশের শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। পাওয়ারপ্লেতে এদিনও টাইগাররা জড়ো করে ৪৪ রান; ২ উইকেট হারিয়ে।

তৃতীয় উইকেটে লিটন দাসের সাথে দলের হাল ধরেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। দুজনের ৫৭ রানের জুটি ভাঙে লিটনের বিদায়ে। ৪১ বলে ৪৯ রান করা লিটন মাত্র ১ রানের জন্য অর্ধশতকের দেখা পাননি। তার ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কা।

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্রিজে আসেন তৃতীয় উইকেটের পতনের পর। অপর প্রান্তে আফিফ রানের গতি সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। রিয়াদ এই ম্যাচেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে আফিফ ঠিকই তুলে নেন অর্ধশতক। ২০ বলে ২২ রান করে অধিনায়ক বিদায় নিলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকান আফিফ, এরপর সাজঘরে ফেরেন ৩৮ বলে ৫০ রান করে। তার ইনিংসে ছিল ২টি করে চার-ছক্কা।

শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৩ রান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৬ বলে ১০ ও নুরুল হাসান সোহান ২ বলে ২ রান করে অপরাজিত থাকেন। ক্যারিবীয়দের পক্ষে হায়ডেন ওয়ালশ দুটি এবং ওডিস স্মিথ ও রোমারিও শেফার্ড একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়রা ভালো শুরু পায়নি। প্রথম ওভারেই ব্রেন্ডন কিংকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ক্যাচে পরিণত করেন নাসুম আহমেদ। চতুর্থ ওভারে শামার ব্রুকসকে শিকারে পরিণত করেন শেখ মেহেদী হাসান। জোড়া আঘাত সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ওডিন স্মিথও ধরেন সাজঘরের পথ, সাকিব আল হাসানের এলবিডব্লিউ হয়ে।

৪৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ধুঁকছে, তখন দলের হাল ধরেন কাইল মেয়ার্স ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক হাঁকানো মেয়ার্স ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৫ রান করেন। নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হয়ে তিনি বিদায় নিলেও পুরান পথ হারাতে দেননি দলকে।

ক্যারিবীয়দের মাসল পাওয়ারে অসহায় হয়ে পড়লে ১০ বল বাকি থাকতেই বাংলাদেশ পরাজয় বরণ করে। শেষদিকে পুরানের ব্যাটে যেন টর্নেডো উঠেছিল। তার হাঁকানো ছক্কাগুলো গ্যালারির বাইরে একের পর এক আছড়ে পড়ে এপিটাফ লিখেছে এই সিরিজে বাংলাদেশের সবটুকু স্বপ্নের। মাত্র ৩৯ বলে ৭৪ রান করা পুরান ৫টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে অপরাজিত থাকেন, ৫ উইকেটের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও ক্যারিবীয়রা সিরিজ জিতে নিয়েছে ২-০ ব্যবধানে।

বাংলাদেশের পক্ষে ৪৪ রানের খরচায় ২টি উইকেট শিকার করেন নাসুম আহমেদ। ৭ম ওভারে ৪ রানের খরচায় ১ উইকেট শিকার করা সাকিব এরপর বল তুলে নেন ১৭তম ওভারে। গোটা ম্যাচে ২ ওভারই বল করেছেন, খরচ করেছেন ১০ রান। শেখ মেহেদী একটি উইকেট শিকার করার দিনে ৪ ওভারে খরচ করেন ২১ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস : বাংলাদেশ

বাংলাদেশ : ১৬৩/৫ (২০ ওভার)
আফিফ ৫০, লিটন ৪৯, রিয়াদ, বিজয় ১০, সাকিব ৫
ওয়ালশ ২৫/২, শেফার্ড ১৯/১

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৬৯/৫ (১৮.২ ওভার)
পুরান ৭৪*, মেয়ার্স ৫৫
নাসুম ৪৪/২, সাকিব ১০/১, আফিফ ১০/১, শেখ মেহেদী ২১/১

জেএন/এমআর

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...