অস্থির লবণের বাজার: খরচ বাড়ায় দুশ্চিন্তায় চামড়া ব্যবসায়ীরা

0

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অস্থির হয়ে উঠেছে লবণের বাজার। চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদন হলেও মোটাদানার লবণের দাম বেশ চড়া।

প্রতিটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে গড়ে ৮ কেজি লবণ লাগে। তবে চামড়া বড় হলে ১০ কেজির বেশি লবণও দরকার হয়। লবণের দাম বাড়ায় এখন প্রতিটি চামড়ায় ২০০ টাকা বাড়তি খরচ হবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) তথ্য বলছে, এবার দেশে লবণের উৎপাদন সন্তোষজনক। ২০২১-২২ মৌসুমে লবণের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন, যা বিসিক লবণ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে (৬১ বছর) রেকর্ড।

এ হিসাবে দেশে এখন মজুত লবণের পরিমাণ তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টনের মতো। যেখানে আসন্ন ঈদে পশুর চামড়ার জন্য প্রয়োজন হবে ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টন।

বাজারে এখন মোটাদানার লবণের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়ে গেছে। প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এছাড়া নিম্নমানের অপরিশোধিত লবণ বিক্রি হচ্ছে বস্তাপ্রতি (৬০ কেজি) ৮৭০ টাকা, যা কিছুদিন আগেও পাওয়া যেত ৫০০ টাকায়।

কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে পুঁজি করে লবণের বাজার অস্থিতিশীল করে রাখা হয়েছে। লবণের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতি বর্গফুট চামড়ার প্রক্রিয়াকরণ খরচ ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া অন্যান্য ক্যামিলের খরচ তো রয়েছে।

এদিকে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন ব্যয় ও কক্সবাজারের লবণ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের পাশাপাশি বাজারে চাহিদার তুলনায় লবণ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে দাবি লবণ ব্যবসায়ীদের। এছাড়া সরকার লবণ আমদানি বন্ধ রাখায় সংকটও বেড়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কান্তি সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, দেশে বর্তমানে লবণের চাহিদা ৩০ লাখ টন। কিন্তু সরকার ২৩ লাখ টন বলছে। সে হিসেবে সব হিসাব হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ঘাটতি রয়েছে। শুধু মোটা লবণের দাম কিছুটা বেড়েছে। সেটা আমদানি হলে কমে যাবে।

জয়নিউজ/পিডি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...