নিম্নমানের সামগ্রীতে সড়ক নির্মাণের অভিযোগ: ঠিকাদারকে চিঠি

0

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার অন্তর্গত জোরারগঞ্জ-আবুরহাট সড়ক সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সংস্কার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কালাম এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে।

নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে যেনতেন ভাবে সড়ক নির্মানের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুসে উঠছে এলাকাবাসি। নিম্নমানের খোয়া, ইট, বালি ব্যবহার করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে টনক নড়েছে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের।

সংস্কার কাজের পরিদর্শন করে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সাইড় ইঞ্জিনিয়ার মাকসুদ জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ক্রমে সংস্কার কর্যক্রম পরিদর্শন সম্পন্ন করেছি। পরিদর্শন কালিন সংস্কার কাজে কিছু অনিয়ম নজরে এসেছে।

নিম্নমানে সামগ্রী ব্যবহার হয়েছে বেশ কিছু স্থানে। সড়কের এজিমও নিয়ম অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি। সেটিও পুন স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। এছাড়া সড়কে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে।

ল্যাবের পরীক্ষায় যদি মেগাডোম (সড়কে ব্যবহৃত ইটের টুকরো বা খোয়া) এর মান অথ্যাৎ লস অ্যাঞ্জেল এভ্রিয়েশন টেষ্ট ভ্যালু বা ইটের খোয়ার কাঠিণ্যতা ও ক্ষয়ের মান পরীক্ষার ফলাফল ৪০ পাওয়া না যায় তাহলে পুনরায় নতুন খোয়া সরবরাহ করতে হবে। সে ব্যাপারে ও ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোরারগঞ্জ থেকে আবুরহাট সড়কটির ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার জুড়ে সংস্কারের কাজ চলছে। জোরারগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ অংশ থেকে পশ্চিমে একটু অগ্রসহ হলেই কাজের ব্যাস্ততা চোখে পড়ে যে কারো।

শ্রমিকরা কেউ রাস্তার অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া দিচ্ছে তার উপর রোলার দিয়ে সমান করা হচ্ছে। কিছু শ্রমিক রোলার চাপা অংশে নিম্নমানের বেলে দোঁয়াশ অপরিচ্ছন্ন মাটি ছিটাচ্ছে।

সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, রোলার চালক ও শ্রমিকদের সুপারভাইজারের কাছে জানতে চাইলে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে স্বীকার করে জানান, প্রায় সড়কে একি ধরণের কাজ হয়। তারা কাজের মালিক কাজ করেন। নিম্নমানের সামগ্রী এনে দিলেও তাদের কিছুই করার থাকেনা। এ ব্যাপারে তাদের করার কিছুই নেই।

নিন্ম মানের খোয়া সংস্কার কাজে ব্যাবহারের ফলে রোলার চাপার সাথে সাথে বালি হয়ে সড়কে মিশে যাচ্ছে। যা দেখে মনে হচেছ সড়কে ব্যবহৃত খোয়া যেন পাহাড়ি লাল মাটি ছাড়া আর কিছুই নয়।

এছাড়া সড়কে ব্যবহৃত মেগাডোমের স্তরের পুরুত্বও এক এক স্থানে এক এক রকম। পুরাতন মেগাডোম ও নতুন মেগাডোম মিলে ৬ ইঞ্চি হওয়ার কথা থাকলেও কোথাও সাড়ে ৩ইঞ্চি আবার কোথাও মাত্র ৩ইঞ্চি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কালাম এন্টার প্রাইজের স্বাত্বাধীকারী নুরুল হক মিজান নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সংস্কার কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, ভাই আমি যাদের কাছ থেকে নির্মান সামগ্রী ক্রয় করেছি তারা নিম্নমানের কিছু সামগ্রী সরবরাহ করেছে আমার অনুপস্থিতিতে।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে সেম্পল নিয়ে গেছে, আমাকে নোটিশ করেছে। আমি এখন বেকায়দায় আছি আমাকে একটু সহযোগীতা করুন।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রনী শাহা তার বক্তব্যে জানান, সড়কটির সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে প্রেরণ করেছি।

ঠিকাধারী প্রতিষ্ঠান খারাপ কাজ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তাকে নোটিশ করা হয়েছে। নিন্মমানের সামগ্রী পরিহার করে ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কাজ বুঝিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় তার বিল কর্তন ও লাইসেন্স বাতিল সহ শাস্তি মূলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেএন/টিটি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...