ধানের ভরা মৌসুমেও ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার

0

দেশে এখন বোরো ধানের ভরা মৌসুম। এরপরও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী, দেশের বিভিন্ন জেলায় চালভেদে এক লাফে কেজিপ্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে গত কয়েক দিনে।

এতে করে চরম ভোগান্তীতে পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের দাবি বর্তমানে সব কিছুরই দাম বাড়ছে। সবচাইতে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে চাল কিনতে গিয়ে। তাই অতিদ্রুত চালের দাম কমানোর দাবী জানান তারা।

এদিকে চালের দাম নিয়ে বরাবরের মতোই একে অপরের প্রতি অভিযোগ আনছেন খুচরা বিক্রেতা এবং মিলমালিকরা

জানা গেছে, কোনো কোনো জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। ধান উঠছে মোকামের বাজারগুলোয়। আর সেই ধান কিনে নিচ্ছেন ধনী ব্যবসায়ীদের স্থানীয় এজেন্টরা। কেনার পর চলে যাচ্ছে আড়তে।

কারও কারও ধানের চালান চলে যাচ্ছে মিলারদের কাছে। সেখানে চাল হয়ে বস্তায় বস্তায় যাচ্ছে গুদামে। খোলাবাজারে চাল আসছে কম। আর চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতির পরিণামে পাল্লা দিয়ে মোকামেই বাড়ছে চালের দাম।

এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম কেন বাড়ছে—তার কারণ দ্রুত খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাজারব্যবস্থা যাচাই করে কোন ব্যবসায়ী কিসের ব্যবসা করেন এবং যিনি যে ব্যবসার জন্য অনুমোদন নিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবসা করছেন কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে বলেছেন তিনি।

গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

কেন ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ছে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কেউ কেউ নিয়ম ভেঙে চালের ব্যবসায় নেমে গেছে। বড় কোম্পানির কাছে হাজার হাজার কোটি টাকা রয়েছে, তারা হয়তো বিপুল পরিমাণ চাল কিনে রেখেছে।

এদিকে দেশে অনেক জায়গায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদ হওয়ায় বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন বেশি হবে বলে আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

তবে ভরা মৌসুমে যখন চালের দাম কমার কথা, তখন চাল উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত কুষ্টিয়া ও নওগাঁর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

গত শনিবার থেকে কুষ্টিয়ায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে এক লাফে কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা। এতে এক মাসের কম সময়ে চালের দাম কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকা বাড়ল।

মোকামে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

তাছাড়া নওগাঁয় গত কয়েক দিনে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম প্রতি মণে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধানের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে চালের দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে ব্যবসায়ীরা যে যেভাবে পারছেন ধান মজুত করছেন। ঘাটতির অজুহাতে বাড়ানো হচ্ছে চালের দাম।

প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) চালের দাম ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারের প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এসব বিষয় মিলে ধান-চাল বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চাল ব্যবসায়ী তাজু প্রাং বলেন, মিলাররা খুচরা বাজারে চাহিদামতো সরবরাহ করছেন না। এ জন্য অবস্থা ভয়াবহ হচ্ছে।

বর্তমানে সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি করেন বাংলাদেশ অটো মেজর হাসকিং রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রশীদ।

তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে মাঠে অনেক ধান নষ্ট হয়েছে। যে কারণে ধানের বাজার চড়া। বেশি দামে ধান কেনার কারণে চালের দামও বেড়ে যাচ্ছে।

জয় নিউজ/টিটি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...