আরএসএফ-এর প্রতিবেদন বিদ্বেষপ্রসূত

0

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ফ্রন্টিয়ার্স বা আরএসএফ-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এই প্রতিবেদন বিদ্বেষপ্রসূত, আপত্তিকর এবং অগ্রহণযোগ্য।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের দেওয়ানজী পুকুর পাড়ের বাসায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ফ্রন্টিয়ার্স একটি প্যারিসভিত্তিক সংস্থা। এই সংস্থা সব সময় বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তারা গত বছর এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে প্রচণ্ড আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল। তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে অসত্য ভুল এবং মনগড়া রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতিবাদ জানিয়েছিল। একইভাবে প্যারিস-প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি ফ্রান্সের আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দিয়েছিল। আইনি নোটিশে ছিল, তারা কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের ব্যাপারে এ রকম মন্তব্য করতে পারে না, ফ্রান্সের আইনেই তা উল্লেখ আছে। তারা ফ্রান্সের আইন লঙ্ঘন করে সেটা করেছে। সুতরাং তারা এখন যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, এটিও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এটি আপত্তিকর এবং বিদ্বেষপ্রসূত।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে, সেসব সূত্র থেকে তারা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং নিজেরাও বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটারও কোনো মূল্য নেই। গত বছর বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন তাদের সেই প্রতিবেদন ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল, প্রকাশ্যে বিবৃতিও দিয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই একই সংগঠন আবারো যখন বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে কথা বলে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিতে হবে যে, সেই সংগঠনটা ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনগুলো দিচ্ছে। তারা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও কথা বলেছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বিষয়টি যখন ছিল না, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়টিও ছিল না। যখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ডিজিটাল বিষয়টি এসেছে, তখন গণমানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বিভিন্ন দেশ আইন করেছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই আইন হয়েছে এবং হচ্ছে। সিঙ্গাপুর, ভারত, পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এই আইন হয়েছে।

তিনি বলেন, এই আইন সব মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য। এই আইনের সুযোগ গ্রহণ করে অনেক সাংবাদিকও তাদের বিরুদ্ধে মানহানিকর অনেক কিছু করার জন্য মামলা করেছে। অবশ্যই সাংবাদিক হোক, সাধারণ মানুষ হোক কারো বিরুদ্ধে এই আইনের অপব্যবহার হওয়া উচিত নয়, তা নিয়ে আমরা সতর্ক আছি।

তিনি বলেন, এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফ্রেম ওয়ার্ক ল করছে, যেটার অধীনে বিভিন্ন দেশে পদক্ষেপ নেয়া হবে, আইন করা হবে। ফ্রান্সেও একই ধরণের আইন আছে। সুতরাং আরএসএফ-এর এই প্রতিবেদন, যা বাংলাদেশকে কয়েকধাপ নামিয়ে দিল, তারা বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত হয়েই কাজটি করেছে। এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছি।

দেশে গণতন্ত্র নেই, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন কারণে মানুষের মন ভালো নেই, তাই দেশের মানুষ ভালোভাবে ঈদ করতে পারেনি- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির পর দেশে এবার যেভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের মানুষ ঈদ করেছে, সেটি অভাবনীয়। শুধু তাই নয়, এ বছর দেশের মানুষ যেভাবে কেনাকাটা করেছে, ব্যবসায়ী সমাজ তাতে প্রচণ্ড খুশি এবং দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছে। এবার দেশে ঈদযাত্রা অনেকটা ভোগান্তিহীন ছিল। সেজন্য মানুষ খুশি। মানুষের মধ্যে এখনো খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল সাহেব সম্ভবত অন্যগ্রহে বসবাস করেন। অথবা তার মাথার মধ্যে অন্যদেশ ঘুরপাক খায়।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব যে কথাগুলো বলছেন, মনে হচ্ছে তিনি বাস্তবতা থেকে বহু দূরে, কিংবা অন্যগ্রহে বসবাস করে এ ধরণের কথাগুলো বলছেন। এজন্য আমার মনে হয়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার। কারণ ওনার বয়স হয়েছে, বয়স হলে মানুষ অনেক ধরণের আবোল-তাবোল কথা বলে, এজন্য তাদের ডাক্তারদের সংগঠন ড্যাবের উচিত তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের কিছু পরীক্ষা করা।

এন-কে

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...