মিতুকে নিয়ে যা বললেন আকাশের ভাই

ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে হারিয়ে এখনো কাঁদছে তার পরিবার। তার মা সারাদিন শুধু ছেলের বিয়ের অ্যালবাম উল্টে-পাল্টে দেখেন আর কাঁদেন। আর মায়ের কান্না দেখে কাঁদেন আকাশের দুই ভাইও। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডা. আকাশের নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসায় গিয়ে দেখা মিলল এমন চিত্রের। এসময় কথা হয় আকাশের ছোট ভাই ডা. মঞ্জুর মোরশেদ অসীমের সঙ্গে। জয়নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক রুবেল দাশের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভাই-ভাবী নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আকাশের কুলখানি আয়োজনে চন্দনাইশের বাড়িতে গিয়েছিলেন তার পুরো পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকালে তারা শহরের বাসায় ফেরেন। কিন্তু ঘরে এসেই ছেলের স্মৃতিতে কাতর হয়ে ওঠেন আকাশের মা। বড় ছেলে আকাশকে হারিয়ে তার মা জোবেদা খানম নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। সারাদিন শুধু কাঁদছেন আর মনমরা হয়ে বসে থাকেন। কথাও বলছেন না কারো সঙ্গে। ছেলের ছবির অ্যালবাম দেখে শুধু বলছেন, ‘আমার সব শেষ, কথা বলে কী হবে’।

- Advertisement -

অশ্রুসজল চোখে আকাশের ছোট ভাই ডা. মঞ্জুর মোরশেদ অসীম জয়নিউজকে বলেন, ‘আমরা কখনোই ভাবিনি এমন একটা ঘটনা ঘটবে। ভাই-ভাবীকে সবাই লাভবার্ড বলতো। ভাইকে আমরা সবাই বউপাগল বলতাম। স্ত্রীকে সে অনেক বেশি ভালোবাসতো। স্ত্রীর সুখের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতো বড় ভাই। কিন্তু সেই স্ত্রীর জন্যই তাকে শেষ পর্যন্ত প্রাণ দিতে হল।’

- Advertisement -
google news follower

মিতু সম্পর্কে অসীম বলেন, ‘আমার ভাই তাকে অনেক ভালোবাসলেও মিতুর কোন ইমোশন ছিল না আমার ভাইয়ের প্রতি। বিয়ের আগে বিভিন্নজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল এটা জানার পরও ভাই তাকে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পরও সে বিভিন্ন জনের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি তার মোবাইলে এমন মেসেজও পাওয়া গেছে সে প্যাটেলকে লিখেছে, ‘আমি আকাশের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার সময়ও আমার হৃদপিণ্ড তোমার (প্যাটেল) নামে স্পন্দিত হয়! এ ধরনের একটা মেয়ের সঙ্গে আমার ভাই দুই বছর ঘর করেছে, এটা মানতেও কষ্ট হয়!’

তিনি আরো বলেন, ‘যেদিন রাতে ভাই ও ভাবীর ঝগড়া হয়েছিল সেদিন মিতু যখন বাসা থেকে চলে যাচ্ছিল তখন ভাই বলেছিল, তুমি চলে গেলে আমি আত্মহত্যা করব। কিন্তু মিতু তার কথার পরোয়া না করে ভাইকে বলে, তুমি মরলে মরো। আমি আর তোমার সঙ্গে থাকব না। এত ভালোবাসা যার জন্য ছিল, সে স্ত্রী যদি একথা বলে তাহলে একজন স্বামীর মানসিক অবস্থা কেমন থাকে বলেন?’

- Advertisement -
islamibank

মিতুর কঠিন শাস্তির দাবি করে অসীম বলেন, ‘আমরা জানি বাংলাদেশে কখনো কোন মেয়ের ফাঁসি হয়নি। কিন্তু মিতুরা মেয়ে নামের কলঙ্ক। ওকে যদি ফাঁসি দেওয়া না হয় তাহলে এরকম আরো সংসার ভাঙবে। আমার মায়ের মতো আরো অনেক মা কাঁদবে সারাজীবন। তাই সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, মিতুকে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়। কারণ মিতুই আমার ভাইয়ের হত্যাকারী।’

জয়নিউজ/জুলফিকার

KSRM
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জয়নিউজবিডি.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।

এই বিভাগের আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ